ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করছেন? আপনি কি সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগেই যাচাই করেছেন? এই শহরে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা অনেকের কাছে স্বপ্ন। সবাই ভাগ্যবান নয়; এবং যারা ভাগ্যবান, তাদের জীবনের সঞ্চয়ের সিংহভাগ বিনিয়োগ করতে হয় একটি ফ্ল্যাটের পিছনে। বর্তমানে ঢাকাতে একা জমি কেনা প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে যাচ্ছে তাই ফ্ল্যাট কেনা অথবা যৌথ মালিকানায় জমি কিনে ফ্ল্যাট করা বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

নিঃসন্দেহে  ফ্ল্যাট কেনা অথবা যৌথ মালিকানায় জমি কিনে ফ্ল্যাট করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গুলো নেয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজগুলো যাচাই করা অত্যাবশ্যক। চলুন দেখে নেই কোন কোন কাগজগুলো দেখে নেয়া জরুরি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সম্পত্তির ধরন

আপনার প্রথম যে জিনিসটি দরকার তা হল সম্পত্তিটি কোন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। ঢাকার প্লটগুলো মূলত ২ ভাগে বিভক্তঃ

১। রাজউক ইজারাকৃত।

২। ফ্রি হোল্ড সম্পত্তি।

রাজউক এর ওয়েবসাইটে অঞ্চল ও প্লট গুলোর তালিকা পাওয়া যাবে।

এছাড়াও, জমি দুটি ধরনের হয়ে থাকে, বাণিজ্যিক এবং আবাসিক। মূল দলিলে জমির এই তথ্যগুলো উল্লেখ থাকে। প্রত্যেক ধরনের জমি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়। মনে রাখবেন, কোন ব্যক্তি বাণিজ্যিক কাজের জন্য বরাদ্দকৃত অঞ্চলে আবাসিক ভবন নির্মাণ করতে পারবেন না, আবাসিক অঞ্চলেও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা যাবে না। এছাড়াও, কর এবং ইউটিলিটি সুবিধা দুই ধরণের জমির জন্য পৃথক হয়। চলুন দেখে নেয়া যাক , এই দুই ধরনের জমির বিস্তারিত ও সংশ্লিষ্ট আইনগত কাগজপত্র গুলো।

রাজউক পরিচালিত সম্পত্তিগুলো জন্য আইনি কাগজপত্র

রাজউক হল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজধানীর উন্নয়নে নিবেদিত একমাত্র সরকারী সংস্থা। 

রাজউক কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা সম্পত্তিগুলো যেমন, ক্রয় / বিক্রয় / নির্মাণ ইত্যাদি কাজের জন্য রাজউক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন হয়। যদি কোন সম্পত্তি রাজউক এর ব্যবস্থাপনায় থাকে তবে সেই সম্পত্তি কেনার আগে নিম্নোক্ত আইনি দলিল গুলো দেখে নেয়া জরুরি।

 রাজউক ইজারা দলিলঃ

মূলত রাজউক ঢাকার একটি প্লটের ১০০ বছরের জন্য বরাদ্দ সরবরাহ করে এবং ইজারা দলিলের মাধ্যমে সরকারী অনুমতি দেওয়া হয়। এই দলিলটি মালিকানার প্রমাণ তাই আপনার কোনও অর্থ প্রদানের আগে দলিলে বিক্রেতার নাম এবং দলিলে উল্লেখিত সম্পত্তির ধরন ক্রস-চেক করতে ভুলবেন না।

সাধারণত, একটি ইজারা দলিলে সম্পত্তিটির ২৫ বছরের ইতিহাস থাকে যাতে আপনি পূর্ববর্তী মালিকের বিবরণ কালানুক্রমিকভাবে জানতে পারবেন।যদি নির্বাচিত সম্পত্তির বর্তমান মালিক একাধিক থাকেন তবে এটি আলাদাভাবে এখানে উল্লেখ করা থাকবে। তাছাড়া, এই দলিলে সংলগ্ন সম্পত্তি ও তাদের মালিকের নাম উল্লেখ থাকে।

রাজউক প্রকল্প অনুমোদনঃ 

সম্পত্তিটি যদি এক বা একাধিক মালিকের অধীনে থাকে তবুও তাদের বিল্ডিং করার জন্য রাজউকের অনুমোদন নিতে হবে।ফ্লোর সংখ্যা, ফ্লোরের আকার, খালি জায়গা উল্লেখসহ বাড়ির নকশার অনুমোদন নিতে হবে রাজউক থেকে। সংক্ষেপে, এই দলিলে অ্যাপার্টমেন্ট সম্পর্কে আপনার যা জানা দরকার সবকিছু অন্তর্ভুক্ত থাকবে।তবে মূল ইজারা দলিল ব্যতীত রাজউক কোনও নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন করে না।

ফ্রি হোল্ড সম্পত্তি

রাজউক বা অন্যদের দ্বারা পরিচালিত নয় এমন বৈশিষ্ট্যগুলি মূলত ফ্রিহোল্ড সম্পত্তি হিসাবে বিবেচিত হয়। এই জাতীয় সম্পদের জন্য কোনও সরাসরি কর্তৃপক্ষ না থাকায় আপনার অতিরিক্ত সতর্ক হওয়া উচিত এবং নিম্নলিখিত নথিগুলি সাবধানতার সাথে পরীক্ষা করা উচিত।

সিটি জরিপ খতিয়ান

একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশ সরকার জমির মালিকানা জরিপ করে। প্রতিটি জরিপের সময়, পূর্ববর্তী রেকর্ডগুলি রিফ্রেশ করা হয় এবং দাগ নম্বর, পর্চা ইত্যাদির পাশাপাশি নতুন মালিক আপডেট করা হয়। যেহেতু এটা সরকারি দলিল আপনি মালিকের নাম ও সম্পত্তির তথ্য জানতে পারবেন। 

দলিলের নকল

একটি সম্পত্তির মূল মালিকানা দলিল। কোন অঞ্চলের বরাদ্দকৃত ভূমি নিবন্ধকরণ অফিস এই অফিসিয়াল দলিলটি লেখে ও অনুমোদন করে। জরিপের রেকর্ডটি আপনাকে আপডেট তথ্য দেবে, তবে দলিল নথিটি সম্পত্তির কোনো দাবি আছে কিনা যাচাই করবে। সাধারণত, এই দস্তাবেজের জন্য দুটি কপি জারি করা হয়, একটি নাম ধারক এবং অন্যটি রেজিস্ট্রি অফিসের জন্য। সুতরাং, আপনার যদি সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ থাকে তবে নিবন্ধকরণ অফিসে যান এবং যাচাই করুন।

নামজারি

নামজারি হল আরও একটি সরকারী রেকর্ড যা নিবন্ধের সফল সমাপ্তি এবং রেজিস্ট্রি অফিসের স্বীকৃতি নির্দেশ করে। অনেক সময় সম্পত্তির দলিল করার পর নামজারি প্রক্রিয়াধীন থাকতে পারে।

কেন ড্রিমওয়ে হোল্ডিংস লিঃ?

উপরে বর্ণিত কয়েকটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনী দলিল যা আপনার সম্পত্তি কেনার আগে যাচাই করতে হবে। যদি এটি আপনার পক্ষে খুব ঝামেলার মনে হয়, ড্রিমওয়ে হোল্ডিংস লিঃ এর যৌথ মালিকানায় জমি কিনে জমিসহ ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারেন। আমরা পক্ষ থেকে জমির কাগজ পরিপূর্ণ যাচাই করে আপনার বিনিয়োগ সুরক্ষিত করব।

ড্রিমওয়ে হোল্ডিংস লিঃ এর মাধ্যমে যৌথ মালিকানায় জমি ক্রয় করে বসুন্ধরা বা আফতাবনগরে ফ্ল্যাটের মালিকানা পেতে পারেন ৫০% কম খরচে। তাছাড়া নেই কোন বাড়তি ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন ফি, ইউটিলিটি ফি। নেই কোন হিডেন চার্জ কারণ আপনি নিজের নামে জমি ক্রয় করছেন। 

তাছাড়া অন্যান্য ডেভেলপারদের একটি প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে দীর্ঘসূত্রিতা ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী প্রদান খুবই হতাশাজনক। কিন্তু ড্রিমওয়ে হোল্ডিংস লিঃ আপনাদের উন্নতমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেয় যেটা আপনারা নিজেরা যাচাই করে নিতে পারবেন। আপনি চাইলে নিজে আমাদের সাথে থেকে নিজের বাড়ি করতে পারবেন। তাই আমরা বলি……  

এক সাথে জমি কিনি, নিজের বাড়ি নিজেই গড়ি